দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে রোল মডেল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০১৯

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি একথা বলেন। আগামীকাল ১০ মার্চ জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব আজ বিশ্বব্যাপী পরিলক্ষিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেও বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে বাংলাদেশের গৃহীত কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সেনাবাহিনী, আনসার, স্কাউটস, গার্লস গাইড, বিএনসিসি ও স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি সারাবিশ্বে এ দেশকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বে দুর্যোগ ঝুঁকি তথা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ থেকে ‘চ্যাম্পিয়ন অভ্ দি আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। তাই এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, হ্রাস করবে জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি’ অত্যন্ত বাস্তবধর্মী ও যথার্থ হয়েছে।

আবদুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) সরকারি কর্মসূচি হিসেবে অনুমোদন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার ‘বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও সিপিপিকে যৌথ কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি ভূমিকম্প ও বজ্রপাতের মতো দুর্যোগ বাংলাদেশের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগকালীন জানমালের ক্ষতি কমাতে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প মহড়ার আয়োজন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, সে¦চ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম, স্থানীয় জনগণসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাক-দুর্যোগ প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকিহ্রাসে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।